জন্মগত হৃদরোগ (Congenital heart disease, CHD) গুলো কি কি? কেন হয়? কিভাবে হয়? হলে করণীয় কি?

জন্মগত হৃদরোগ (CHD) হলো হৃদপিণ্ডের গঠন বা বড় ধমনীর একটি জন্মগত ত্রুটি যা গর্ভাবস্থায় ঘটে। এর কারণ সম্পূর্ণভাবে জানা না গেলেও জেনেটিক কারণ, মায়ের কিছু রোগ বা কিছু বাহ্যিক কারণ এর জন্য দায়ী হতে পারে। বিভিন্ন ধরনের জন্মগত হৃদরোগের মধ্যে রয়েছে হার্টে ছিদ্র (যেমন, ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট), ভালভের সমস্যা এবং ধমনীর অস্বাভাবিকতা। এর চিকিৎসা নির্ভর করে ত্রুটির ধরনের ওপর; কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ পর্যবেক্ষণ করা হয়, আবার কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ বা অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়। 
প্রকারভেদ

বিভিন্ন ধরনের জন্মগত হৃদরোগ রয়েছে, যেগুলোকে সায়ানোটিক এবং অ্যাকানোটিক – এই দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা যায়। কিছু সাধারণ ত্রুটি নিচে দেওয়া হলো: 

পেশীর সমস্যা: ডান ভেন্ট্রিকলের পেশী ঘন হয়ে যাওয়া (ডান ভেন্ট্রিকুলার হাইপারট্রফি)।

হার্টে ছিদ্র: বাম ও ডান ভেন্ট্রিকলের মধ্যে ছিদ্র (ভেন্ট্রিকুলার সেপ্টাল ডিফেক্ট)।

ভালভের সমস্যা: পালমোনারি ভালভের সংকীর্ণতা (পালমোনারি ভালভ স্টেনোসিস)।

ধমনীর অস্বাভাবিকতা: এওর্টা স্বাভাবিক অবস্থানে না থাকা (ওভাররাইডিং এওর্টা)।

কারণ

  • জেনেটিক কারণ: পরিবারে কারো জন্মগত হৃদরোগ থাকলে অন্য শিশুর আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। 
  • জৈবিক কারণ: গর্ভাবস্থায় মায়ের কিছু রোগ বা সংক্রমণ, যেমন রুবেলা। 
  • বাহ্যিক কারণ: গর্ভাবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ বা অ্যালকোহল সেবন। 
  • অন্যান্য কারণ: ভ্রূণ গঠনের সময়কার জটিলতা বা অজানা কারণ। 

লক্ষণ

শিশুর ধরনের উপর নির্ভর করে লক্ষণ ভিন্ন হতে পারে। 

  • নবজাতক ও শিশুদের ক্ষেত্রে:
    • খাদ্যাভ্যাসে অনীহা এবং ওজন না বাড়া। 
    • দ্রুত শ্বাস নেওয়া বা শ্বাসকষ্ট। 
    • খাওয়ানোর সময় অতিরিক্ত ঘাম হওয়া। 
    • ঘন ঘন শ্বাসযন্ত্রের সংক্রমণ। 
  • অ্যাকানোটিক ক্ষেত্রে: অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না এবং পরবর্তী জীবনে এটি ধরা পড়তে পারে। 
  • সায়ানোটিক ক্ষেত্রে:
    • ত্বক বা ঠোঁট নীলচে হয়ে যাওয়া। 
    • শ্বাসকষ্ট। 
    • শারীরিক দুর্বলতা। 

করণীয়

  • চিকিৎসক পরামর্শ: যদি কোনো শিশুর জন্মগত হৃদরোগ ধরা পড়ে, তবে দ্রুত একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। 
  • প্রয়োজনীয় চিকিৎসা:
    • ওষুধ: কিছু ক্ষেত্রে ওষুধ দিয়ে অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। 
    • অস্ত্রোপচার: জটিলতা সংশোধনের জন্য ওপেন-হার্ট বা মিনিম্যালি ইনভেসিভ সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। 
    • হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট: যদি ত্রুটি খুব গুরুতর হয় এবং অন্য কোনো উপায়ে ঠিক করা না যায়, তবে হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হতে পারে। 
  • বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধান: জন্মগত হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য একটি বিশেষজ্ঞ দল থাকা প্রয়োজন, যারা আপনার নির্দিষ্ট পরিস্থিতির ভিত্তিতে বিস্তারিত পরামর্শ দিতে পারবেন। 
  • জীবনযাপনে পরিবর্তন: ধূমপান, মদ্যপান এবং রাস্তার ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকতে হবে। 
  • নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা: নিয়মিত বিরতিতে চিকিৎসকের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো জরুরি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top