জন্মগত হৃদরোগ (CHD) হলো হৃৎপিণ্ড বা এর বড় ধমনীগুলোর এমন একটি ত্রুটি যা জন্ম থেকেই থাকে, যেমন ছিদ্র, ভালভের সমস্যা বা ধমনীর অস্বাভাবিক গঠন। এর কারণগুলো হলো জেনেটিক পরিবর্তন এবং গর্ভাবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট জটিলতা। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে পর্যবেক্ষণ, ওষুধ, কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন, সার্জারি বা গুরুতর ক্ষেত্রে হার্ট ট্রান্সপ্ল্যানজন্মগত হৃদরোগের ধরন
জন্মগত হৃদরোগের ধরন
সায়ানোটিক হৃদরোগ: হার্ট থেকে শরীরে অক্সিজেন-সমৃদ্ধ রক্ত পাম্প করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে ত্বক নীলচে দেখায়।
অ্যাকেটিক হৃদরোগ: সায়ানোটিক নয় এমন ধরনের হৃদরোগ।
ভালভের সমস্যা: হার্টের ভালভ সঠিকভাবে কাজ না করা।
হার্টে ছিদ্র: হার্টের বিভিন্ন প্রকোষ্ঠের মধ্যে ছিদ্র থাকা (যেমন: VSD, ASD)।
বড় ধমনীর অস্বাভাবিকতা: যেমন প্রধান ধমনীগুলো অস্বাভাবিকভাবে তৈরি হওয়া।
কেন এবং কিভাবে হয়?
- গর্ভাবস্থার প্রাথমিক পর্যায়ে: গর্ভাবস্থার প্রথম ছয় সপ্তাহে হৃৎপিণ্ডের বিকাশের সময় কোনো সমস্যা হলে এটি ঘটে।
- জেনেটিক কারণ: কিছু জেনেটিক অবস্থা, যেমন ডাউন সিনড্রোম, টার্নার সিন্ড্রোম বা নুনান সিন্ড্রোমের কারণে এটি হতে পারে।
- অন্যান্য কারণ: গর্ভাবস্থায় কিছু নির্দিষ্ট রাসায়নিক, ওষুধ বা মায়ের কিছু সংক্রমণও এর কারণ হতে পারে।
হলে করণীয় কী?
- চিকিৎসকের পরামর্শ নিন: জন্মগত হৃদরোগ নির্ণয় হলে একজন শিশু হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের (pediatric cardiologist) পরামর্শ নেওয়া অত্যাবশ্যক।
- নিয়মিত পর্যবেক্ষণ: কিছু সাধারণ ত্রুটির জন্য অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন নাও হতে পারে। সেক্ষেত্রে চিকিৎসক নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে পারেন।
- ওষুধ: কিছু ক্ষেত্রে, যেমন পেটেন্ট ডাক্টাস আর্টেরিওসাস (PDA), চিকিৎসকরা ওষুধ দিয়ে ত্রুটি বন্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন।
- কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন: কিছু ত্রুটি ক্যাথেটারাইজেশনের মাধ্যমে ঠিক করা যায়। এটি একটি কম ইনভেসিভ পদ্ধতি।
- সার্জারি: জটিল ত্রুটিগুলো ঠিক করার জন্য ওপেন-হার্ট সার্জারি বা মিনিম্যালি ইনভেসিভ সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
- হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্ট: যদি ত্রুটিটি এত গুরুতর হয় যে এটি মেরামত করা যায় না, তাহলে হার্ট প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে।
- জীবনযাত্রার পরিবর্তন: ধূমপান বা মাদক গ্রহণ থেকে বিরত থাকা এবং নিয়মিত চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা গুরুত